বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
ইউনুচ রাতুল, বেরোবি প্রতিনিধি
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নতুন কুঁড়ি, নতুন প্রাণ হলো নবীনরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্রাণের ক্যাম্পাস। তেমনই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন মুখরিত নবীনদের আনাগোনায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখে। আর এই অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাহায্য করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু সংগঠন আছে, যারা নানামুখী দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য বদ্ধপরিকর। তেমন কিছু সংগঠন হলো— স্বপ্নসিঁড়ি, বিআরইউবিডিএফ, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)।
স্বপ্নসিঁড়ি:
স্বপ্নসিঁড়ি রংপুর রেলগেট বাবুপাড়ায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার তারা শিশুদের বিনামূল্যে পড়ানোর কার্যক্রম চালায়। এছাড়া শিক্ষা সামগ্রী প্রদান ও শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ফাতিহুল ইসলাম শোভন বলেন— “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই খুঁজে বেড়ায়, কোথায় নিজের দক্ষতা ব্যবহার করা যাবে। নবীনরা যদি স্বপ্নসিঁড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাদের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের ক্ষমতা আর মানবিকতা বাড়বে। শিক্ষা কার্যক্রম, ইভেন্ট আয়োজন, টিমওয়ার্ক—এসবের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগঠনে সবচেয়ে বেশি সদস্য আছে। তাই এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমি চাই, নবীনরা শুধু সার্টিফিকেট বা সিভি ভরার জন্য নয়, অন্তর থেকে ভালোবাসা নিয়ে যুক্ত হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডির বাইরেও সমাজে আলোর মানুষ হতে চাইলে স্বপ্নসিঁড়ির মতো সংগঠনকে বেছে নিতে হবে।”
বিআরইউবিডিএফ (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরাম):
এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের বিতর্ক শেখায়। পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং এবং অর্গানাইজিং স্কিল গড়ে তোলে, যা জড়তা ও কথাবলার ভয় কাটাতে সাহায্য করে।
সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইমরাতুল জান্নাত ঊষা বলেন— “আমরা নবীনদের নিয়ে সবসময় নতুন চিন্তাভাবনা করি। বিতর্ক সার্কিট অনেক বড়, এখানে নতুন ধারণার জায়গা আছে। তাই আমরা নবীনদের চিন্তাগুলোকে বিকশিত করার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগঠনে যুক্ত হওয়ার দুটি প্রধান কারণ হলো—প্রথমত আমরা নিয়মিত সেশন আয়োজন করি। দ্বিতীয়ত, সংগঠনটি সবসময় নবীনদের জন্য খোলা থাকে। এই দুটি বিষয় আসলে একটি ক্লাব পরিচালনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার (YEH), বাংলাদেশ:
প্রতিবছরের মতো এই বছরও নবীনদের সৃজনশীল ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বেরোবি সাংগঠনিক জেলা। জেলা সমন্বয়কারী হাসান আলী বলেন— “আমাদের সংগঠন সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বৃক্ষরোপণ, ক্লিন ক্যাম্পাস গ্রীন ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি সদস্যদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম যেমন—ওয়ার্কশপ, ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং, ইংলিশ কোর্স ইত্যাদি। এছাড়া ডিবেট উইংস ও রিসার্চ উইংসও রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নবীন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে যদি সমাজ ও নিজের উন্নয়নে কাজ করতে চায়, তবে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারে স্বাগত।”
BNCC (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট ক্রপস ):
BNCC হলো দেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক সেবা ও জাতীয় কর্মসূচিতে BNCC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যাডেট (২৩৩২০১৬৬) আবু তৈয়ব ছিদ্দিকী সোহাগ বলেন— “নবীনরা আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। অন্য সংগঠনের ভিড়ে কেন নবীনরা বিএনসিসি বেছে নেবে—এর উত্তর হলো, বিএনসিসি শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং জীবন-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার পাঠশালা। এখানে যোগ দিলে নবীনরা সময়ানুবর্তিতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার মতো মূল্যবোধ শিখে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনসিসি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে সহায়তা করে। নিয়মিত ড্রিল, প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও নেতৃত্বের চর্চা তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। পাশাপাশি দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ায়। কর্মক্ষেত্রেও বিএনসিসি অভিজ্ঞতা আলাদা মর্যাদা এনে দেয়। তাই যারা নিজেদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল তরুণ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—তাদের জন্য বিএনসিসি হতে পারে সেরা পছন্দ।”
নবীনদের আগমনে যেমন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস, তেমনি বিভিন্ন সংগঠন মনে করছে—এই তরুণরাই আগামীর পরিবর্তন ও নেতৃত্বের শক্তি।